রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
অবশেষে ৫ দিন পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে কূপে আটকে পড়া মরক্কোর ৫ বছরের শিশু রায়ানকে। মঙ্গলবার ১০৪ ফুট গভীর কুয়ার ভেতরে পড়ে যায় সে। তারপর থেকে চলে উদ্ধার অভিযান। উদ্ধারকর্মীদের প্রাণপণ চেষ্টা সত্ত্বেও মরক্কোর কুয়ায় পাঁচদিন ধরে আটকে থাকা পাঁচ বছরের শিশু রায়ানকে বাঁচানো গেল না।
মরক্কোর উত্তরাঞ্চলীয় চেফচাওয়েন প্রদেশের ইঘরান গ্রামে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে কূপ মেরামতের কাজ করার সময় পড়ে যায় রায়ান। ১০৪ ফুট গভীর কুয়ার ভেতরে আটকে পড়া শিশু রায়ানকে উদ্ধার অভিযানের সময় হাজার হাজার মানুষ সেখানে ভিড় করেছিলেন। অনলাইনেও এই উদ্ধার কর্মকাণ্ডের দিকে নজর রেখেছিলেন লাখ লাখ মানুষ।
বালু এবং পাথর বোঝাই থাকার কারণে উদ্ধারকর্মীরা কুয়ার সরু মুখ দিয়ে প্রবেশে করতে পারছিলেন না। তার বদলে কুয়াটির কাছাকাছি বুলডোজার ব্যবহার করে আরেকটি নালা তৈরি করে আড়াআড়িভাবে শিশুটির অবস্থানের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তারা। শক্তিশালী ফ্লাডলাইট ব্যবহার করে দিনরাত কাজ করেন উদ্ধারকর্মীরা।
উদ্ধারকারী দলের একজন বলেন, আমরা যতোই তার কাছে যাচ্ছি, কুয়াটি ততোই সরু হয়ে যাচ্ছে। সেখান দিয়ে আরো নিচে নামা কঠিন। একারণে আমরা একটা গর্ত করে ভেতরে নামার চেষ্টা করছি।
কুয়াটির ভেতর বালু ও পাথর থাকায় ধসের আশঙ্কায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। উদ্ধারকর্মীরা তার জন্য অক্সিজেন, খাবার এবং পানি দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সে সেগুলো ব্যবহার করতে পেরেছে কিনা, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
বৃহস্পতিবারও এই কুয়ার ভেতরে একটি ভিডিও ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে রায়ানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন উদ্ধারকর্মীরা। সেদিন তাকে জীবিত এবং সজ্ঞান রয়েছে বলে দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু এরপর থেকেই তার বিষয়ে আর কোনো তথ্য জানা যায়নি।
শনিবার উদ্ধার কর্মীরা জানিয়েছিলেন, তারা রায়ানের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছেন। যদিও সেই সময় তার অবস্থা সম্পর্কে কোন তথ্য জানানো হয়নি। তখন সেখানে ভিড় করা জনতা উল্লাস প্রকাশ করেছিলেন। একটু পরেই সবকিছু নীরব হয়ে যায় যখন স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় রায়ানের মরদেহ কুয়ার ভেতর থেকে বের করে আনা হয়।
রায়ানের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহামেদ।
এর আগে, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসের শীতের এক বিকেলে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শাহজাহানপুরে খেলতে গিয়ে চার বছর বয়সী শিশু জিহাদ পড়ে যায় পানির পাইপের ভেতর। পরে সাধারণ মানুষের চেষ্টায় কয়েকশ’ ফুট গভীর পাইপের ভেতর থেকে বের করে আনা হয় শিশু জিহাদকে। তবে ততক্ষণে তার ছোট্ট দেহ নিষ্প্রাণ হয়ে গেছে।